অনিক ও খাইরুল ভাই এর জন্য আমরা কি করছি এখন

১৬ তারিখ সন্ধ্যায় বন্ধুদের সাথে নৌকায় ঘুরতে গিয়ে ডাকাতের হাতে নির্মম ভাবে নিহত হন আমাদের দুই ভাই শাবিপ্রবি কেমিক্যাল ইঙ্গিনিয়ারিং বিভাগের অনিক এবং খাইরুল ভাই ।এই শোকে আমরা সকলেই দুঃখী, কিন্তু এই শোককে শক্তি বানিয়ে আমাদেরকে নিশ্চিত করতে হবে হত্যাকারীর বিচার ও ভবিষ্যতে আর একটিও এমন ঘটনা না ঘটার নিশ্চিয়তা ।

ঘটনার প্রতীবাদে ১৭ তারিখ সকাল থেকে শুরু হয় প্রতীবাদ আর বিক্ষোভ । এরই সাথে চোখে পরতে থাতে বিশ্ববিদ্যালয় করতীপক্ষের উদাসীনতার নমুনা ।
রাত ৭ টা ১৫ তে খবর পান আমাদের প্রোক্টর স্যার কিন্তু তিনি ঘটনা স্থলে পৌঁছান রাত ৯ টায় । এতক্ষণ তিনি ব্যাস্ত ছিলেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট এর নাচ-গান দেখার জন্য ।
উনারা সেখনে যান লাশ উদ্ধার করার জন্য, তাদের যে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব ছিল এ কথা তারা একটি বার এর জন্য ভেবে দেখেননি ।
শিক্ষকদের বিবেক-বুদ্ধির যে যথেষ্ট অভাব রয়েছে তা নিয়ে আমার এর কোন প্রশ্ন থাকে না যখন শুনী (নাম উল্লেখ না করেই বলি) স্যার বললেন যে,৪৮ ঘন্টা পর লাশ আপনাআপনি ভেসে উঠবে?!!!!
আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় গরীব বলে আমরা জানি, তাই বলে কি এতটাই গরীব যে লাশ উদ্ধার এর জন্য বড় জাল এর বাবস্থাও করতে পারবে না ।
ডুবুরিবিহীন উদ্ধার কাজে আমাদের সম্বল মাঝি। সে মাঝির জন্য যখন ২০০০ টাকা প্রয়োজন তখন আমাদের সেই শিক্ষক যার উপর আমাদের যাবতীয় দায়িত্ব অর্পিত উনাকে বারবার লাশ নদী থেকে তোলার জন্যে জাল ফেলতে বলা হলে তিনি বলে উঠেন, “শুধু শুধু একজন অতিরিক্ত মাঝি কী দরকার একজন করছে একজনই করুক।“
সকালে  “সিগারেট” খেতে খেতে লাশ দেখতে এলেন আমাদেরই আরেকজন শিক্ষক !!! পাবলিক ভার্সিটিতে পড়ি দেখে আমরা কি কুকুর-বিড়ালে পর্যায়ে পরি ???
এইসব নিয়ে ১৭ তারিখ বেলা বারটা পর্যন্ত শিক্ষকদের এইসব তামাশা চলে । কিন্তু আমার ভাইয়ের লাশ কিন্তু পচে যাওয়া শুরু করে । আমার ভাইয়ের লাশে মাছি বসবে এর আমরা তা সহ্য করব, না আমরা এখনও আমাদের শিক্ষকদের যোগ্য ছাত্র হতে পারিনি বলেই আমরা তা সহ্য করতে পারি নাই।
লাশ পাঠিয়ে দেয়া হয় মর্গে । কিন্তু আন্দোলন কিন্তু থেমে যায়নি । বরং আমাদের শ্রদ্ধেও কথিত ছাত্র নেতারা ঘটনাকে পুজি করে নিজ স্বার্থ পুরা করার পূর্ণ চেষ্ঠা চালায়, আমরা তা প্রতিহত করি ও আন্দোলন পুরপরি সাধারণ ছাত্র-ছাত্রী দ্বারা চালিয়ে যাই । আন্দোলন ও আবরোধ এর মুখে ভিসি স্যার সকল দাবি মেনে নেন । দাবি গুলো ছিল-
১) প্রক্টরের পদত্যাগ
২) লাশ এর কাছে দারিয়ে ধূমপান কারী ঐ সারের মিডিয়ার সামনে ক্ষমা প্রার্থনা ।
৩) ৪৮ ঘন্টার মধ্যে খুনীদের গ্রেফতার করতে না পারলে লাগাতার ধর্মঘট ।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘোষিত হয় তিন দিনের শোক । রাতে  মোমবাতি মিছিলে অংশ গ্রহন করি আমরা ।
পরের দিন ১৮ তারিখ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় পালিত হয় শোক র‍্যালী । আয়োজিত হয় শোক সভা ।
জানা যায় দাবীর কিছু অগ্রগতি । ১২ জন আসামীর মধ্যে ধরা পরেছে ৬ জন, মূল পরিকল্পনাকারী সহ  । সামনের কিছু কর্মসূচীও আসে । যার মধ্যে ১৯ তারিখ সকালে শোক র‍্যালী সহ সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে যাওয়ার কথা ছিল কিন্তু পরে কিছু অনাকাংক্ষিত ঘটনা ও বর্তমান পরিস্থিতির কারনে তা আপাতত বাতিল করা হয় । পরিবর্তিত কমসূচি হল ১৯ তারিখ ;
সকাল ১১ টায় ভিসি অফিস এর সামনে বিক্ষোভ ও তিন দফা দাবি পেশ ।
১২ তার দিকে প্রেস ব্রিফিং ও মিডিয়ার কাছে সত্য প্রকাশ ।
প্রতীকি অনশন ও ভবিষ্যৎ এর নিরাপত্তা বিধান এর নিশ্চিয়তার দাবী ।
সকল আন্দোলন হবে শান্তিপূর্ণ ও জাতীয় রাজনীতির প্রভাব মুক্ত । দাবী মানা না হলে কিলো রোড অবরোধ, কাফন এর কাপড় পরে ক্যাম্পাস এ অবস্থান  সহ আরো কঠিন আন্দোলন কর্মসূচী নেয়া হবে ।
আমরা আমাদের ভাই এর রক্ত বৃথা যেতে দিবনা । তাদের লাশ এর প্রতি অবমাননা আমরা মেনে নেব না । দোষীদের দ্রুত বিচার আর অবমাননাকারী শিক্ষকের উপযুক্ত শাস্তি আমরা নিশ্চিত করবই ।

কৃতজ্ঞতায় – মিজান ভাই (CEE 2/2), অলি(EEE 1/2), সাদ(EEE 1/2)

Advertisements

About j. hossain xitu

nothing special

One thought on “অনিক ও খাইরুল ভাই এর জন্য আমরা কি করছি এখন

Share your thinking

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s