ধূমপান নিয়ে কিছু অভিজ্ঞতা এবং আমার মন্তব্য

কিছু অভিজ্ঞতা ও মন্তব্য শেয়ার করার জন্য আমার এই লেখা। লেখাটা আসলে মজা করে লেখার চেষ্টা করেছি, জানিনা কতটুকু মজা করতে পারব।

প্রথমেই দুইটি ভিন্ন ভিন্ন অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করছি পরে মন্তব্য করব।

কাহিনী ১ : একদিন ইউনিভার্সিটি এর বাস না পেয়ে সকালে বাসা থেকে রওনা হয়ে সিএনজিতে উঠলাম, কারণ ক্লাস শুরু করার আর বেশি সময় বাকি নেই। মাঝেমাঝেই এমন দেরি করে ফেলি।তো সেদিন সিএনজিতে উঠার পরে দেখতে পেলাম ঠিক মাঝখানে বসে একজন ভদ্রলোক বিড়ি খাচ্ছেন। আগেই বলে রাখি সিগারেটের প্রতি আমার বিন্দু মাত্র শ্রদ্ধা নেয় বলেই আমি একে বিড়ি বলি সবসময়। মনে মনে ভাবছিলাম এই ভদ্রলোক যেন আমাদের ইউনিভার্সিটি এর স্টুডেন্ট না হয়। কারণ ইউনিভার্সিটি এর স্টুডেন্ট এমন কাজ করতে পারে তা আমার কল্পনায় ছিল না। যাইহোক গেইটের কাছে এসে নাস্তা করার জন্য নেমে যেতেই দেখলাম সিএনজিটা ইউনিভার্সিটি এর ভেতরে ঢুকছে। তখন একটু খারাপই লাগলো কিন্তু চিন্তা করলাম আসলে আমার ইউনিভার্সিটি এর স্টুডেন্টদের আমি না বললে ব্যাপারটা কেমন জানি হয়ে যায়। তাই কাছে গিয়ে বললাম এতটুকু আদব কায়দা তো বজায় রাখবা যে সিএনজিতে সিগারেট খাবানা। তার আগে একটু বলে রাখি যে আমাকে অনেকেই  চেনেনা কারণ আমি নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত প্রভাষক এবং আমার বিভাগটাও নতুন। এখনত যা ঘটার তাই ঘটল সেই ভদ্রলোক আমাকে চিনলনা এবং ইউনিভার্সিটি এর স্টুডেন্টদের সচরাচর পার্টটা নেয়ার জন্য সিএনজি থেকে নেমে চলে আসল আমার দিকে। মনে মনে খোদাতায়ালার কাছে ধন্যবাদ দিয়েছিলাম যে আমি এই ইউনিভার্সিটি এর টিচার। মাঝে মাঝে এরকম পরিস্থিতিতে আমরা(টিচাররা) ভয়েই থাকি কারণ সরকারি ইউনিভার্সিটি এর টিচারদের কিন্তু একটি জিনিসই আছে সেটা হল সম্মান। সম্মান যাওয়া মানে সবকিছুই চলে যাওয়া। তো ভদ্রলোক আমার সামনে এসে জিজ্ঞাসা করল আপনি কি এই ইউনিভার্সিটি এর স্টুডেন্ট কিনা? আমি মনে মনে চিন্তা করলাম একবার মজা করে দেখি যে, আমি এই ইউনিভার্সিটি এর কেওনা বলে। তৎক্ষণাৎ মাথায় কাজ করল সেই সম্মানের কথা। আর না ভেবে বলে দিলাম আমি তোমাদের টিচার। পরে দেখলাম সে সরি স্যার বলে চলে গেল। সাথে আমার বন্ধু ছিল, সে পরে আমাকে বলছিল, “তোর জায়গায় আমি হলে খবরই ছিল, আমাকে হয়তো বেজায় অপদস্ত হতে হইত” ।

কাহিনী ২ : একদিন আমি আর আমার এক বন্ধু বসে বসে গল্প করছি। আমার বন্ধু সিগারেট খায়। তো আমি ওকে কখনই আমার সামনে সিগারেট খেতে দেইনা কারণ আমার কষ্ট হয় ব্রিদিং এর। তো মাঝেমাঝেই আমার বন্ধু আমার উপর রাগ করে। খুব কাছের বন্ধু তাই মুখে বলেনা। এখানে যারা বিড়ি খান সবারই হয়ত মনে হবে যে, কি নিষ্ঠুর! কিন্তু আমার মনে দুটি প্লান কাজ করে, একদিক থেকে আমি তাকে ধুমপান থেকে কিছুটা হলেও প্যাছিভ(passive) না করতে পারব এবং আমার নিজেরও কষ্টটা হবেনা। এভাবে অনেকদিন পরে আমি চিন্তা করলাম, আমি যে তাকে এমন ধূমপানের ব্যাঘাত ঘটাই তো তার আসলে কি ফিলিংস্‌। মনের কথা জানার জন্য তাকে খুব সহানুভতি নিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম, “আসলে তুই কি ভাবিস আমার এই কষ্ট ও তোকে ধূমপানের ব্যাঘাত ঘটানোর ব্যাপারে?” সে আসলে সত্যি সত্যিই উত্তর দিল যে তার কাছে মনে হয় আমি যতটা বলি আমার কষ্ট হয়, তা আসলে হয় না। তখন আমি অনেক কিছুই বুঝতে পারলাম, সেগুলো মন্তব্যে বলব।

মন্তব্য 

১ : এই ঘটনা থেকে আমি একটা বিষয় বুঝতে পারলাম যে আমাদের এডুকেশন সিস্টেম আমাদেরকে ঠিকমত মোরালিটী শেখাতে পারছেনা। আমাদের বাবা মা এর কাছে থেকে শিখে আসা মোরালিটী সম্পূর্ণ না আসলে।

২ : ইউনিভার্সিটি এর স্টুডেন্টরা অনেক সময় মনে করেন যে তাদের ক্ষমতা দেখাতে পারলেই অনেক বড় হয়ে গেল এইটা একদমই ঠিক না। হ্যাঁ আমরা জানি আমরা ইউনাইটেড, আমরা এখনি একসাথে অনেক কিছু করে ফেলতে পারি। কিন্তু আমাদের বুঝতে হবে আমরা কি করছি। আমরা যা করতে যাচ্ছি তা ঠিক কিনা। এরকম অনেক ব্যাপারই হয়ত হয়েছে আগে বা হবেও ভবিষ্যতে যা আমাদের করা ঠিক না তবুও করছি কিন্তু পার্থক্য ওই জায়গায় যে আমরা বুঝতে পারছি কিনা, আমরা ভুল করছি। তো আমার অনুরোধ আমাদের সম্মানিত স্টুডেন্ট এবং সবার প্রতি যে, যা করছেন বা করতে যাচ্ছেন তা একটু বিবেকের কাছে প্রশ্ন করে করতে যান বা করেন। বিবেকের চেয়ে বড় পথ আর কেও দেখাতে পারবেনা।

৩ : এখনও অনেকের মনে হয় যে নন স্মোকাররা হয়ত কষ্ট না পেয়ে ভান করে। আমি ধরে নিলাম কেও কেও ভান করে কিন্তু সত্য কথাবলার শতাংশই বেশি। তাই আমি আপনাদের কাছে আবারও বিনীত অনুরোধ করছি যে, যত সম্ভব অধুমপায়ীদের পাশ থেকে দূরে গিয়ে ধুমপান করুন। এতে হয়ত আপনাদের(ধুমপায়ীদের) অনেক কষ্ট হবে কিন্তু একজন অধুমপায়ী তো বেঁচে যাবে। নিজের বিবেকের কাছে আবার প্রশ্ন করার জন্য অনুরোধ করছি যদি আমার কথায় মন না মানে। কারণ আমি জানি যে, আপনার বিবেক কখনো আপনাকে ধোঁকা দিবেনা।

৪ : পরিশেষে একটা ছোট সারকাসম দিয়ে শেষ করতে চাই।

আমার মাঝেমাঝে মনে হয়, স্মোকিং এসেছে ইস্মারটনেস থেকে। কারণ অনেকেই মনে করেন যে স্মোকিং করলে হয়ত বেশি ইস্মারট লাগে এবং একটা ম্যান্‌লি ভাব আসে, মেয়েরা বেশি পছন্দ করে।

মাঝেমাঝে হলিউডের মুভিতে টম ক্রুজ কিংবা ব্রাট পিটকে দেখি চরম ভাব নিয়ে বিড়ি টানছে। নিজের মনটাকেও সামলাইতে পারিনা, মনে করে বসি, আসলে ব্যাপারটা হয়তো বিড়ি খাওয়ার মাঝেই। কিন্তু পরে লজিক দিয়ে বের করেছি, যে মুভিতে ভদ্রলোকরা স্মোক করেন না সেই মুভিতেও তো তাদের পছন্দ করেন সবাই(মেয়েরা সহ)। এর শানেনুযুল হল যে তাদের পারসোনালিটীই তাদের স্মার্টনেস, যা থাকে তাদের এটিটিউটে, মুভমেন্ট এবং কথা বলার মাঝে।

তাই আসুন আমরা সবাই স্মার্ট হই ইস্মারট না হয়ে।

কিছু লিঙ্ক শেয়ার করছি জানি আপনারা জানেন তবুও আবার দেখার অনুরোধ করছিঃ

http://10steps.sg/inspirations/artworks/50-most-creative-anti-smoking-advertisements/

Advertisements

5 thoughts on “ধূমপান নিয়ে কিছু অভিজ্ঞতা এবং আমার মন্তব্য

  1. I cant but agree with you. I really do not understand why people smoke. I would like to add some comments which I felt missing…

    1. it is an expensive habit since you have to pay a lot of money for it.
    2. it wastes a lot of time. Think you are doing a very important task and your concentration is diverted since you dont have a “biri” with you.

    Hope this post would make awareness among the people with poor thinking.

    —Biswajit Paul

Share your thinking

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s